সুভাষ চন্দ্র বসুর অকথিত সত্য

ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান, আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতিষ্ঠাতা এবং অদম্য সাহস ও আপসহীন দেশপ্রেমের প্রতীক নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৯তম জন্মবার্ষিকীর পবিত্র ও গর্বের মুহূর্তে—২৩শে জানুয়ারি, ২০২৬—একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন প্রখ্যাত  প্রযোজক মান সিং দীপ। গভীর দেশপ্রেম ও আবেগের সঙ্গে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন তাঁর বহু প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র “দ্য আনটোল্ড ট্রুথ অফ সুভাষ চন্দ্র বোস” নির্মাণের কথা।

এই চলচ্চিত্রটি কেবল একটি সিনেমাটিক উপস্থাপনা নয়; এটি কয়েক দশক ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করে রাখা ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলি উন্মোচনের এক সাহসী ও চিন্তাজাগানিয়া প্রয়াস। বিস্তৃত গবেষণা, আন্তর্জাতিক নথিপত্র এবং নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণের উপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবি এমন কিছু তথ্য সামনে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়, যা শুধু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস নয়, বরং বর্তমান বিশ্ব ভূ-রাজনীতির ভিত্তিকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

মান সিং দীপের উপস্থাপনায় নির্মিত এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পটির প্রযোজনা করছেন কল্যাণী সিং ও বেদান্ত সিং, এবং পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা অশোক ত্যাগী। প্রযোজক ও পরিচালকের সুদৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল সাহসের মাধ্যমে ছবিটি প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক আখ্যানকে চ্যালেঞ্জ জানাবে। এই চলচ্চিত্রের মূল বক্তব্য হলো—নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু কেবল অহিংসার তাত্ত্বিক আলোচনার বাইরে গিয়ে, ভারতের স্বাধীনতা অর্জনে বাস্তব, সক্রিয় এবং নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছিলেন।

ছবিটিতে আরও গভীরভাবে তুলে ধরা হবে, কীভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিজয়ী শক্তিগুলির ক্ষমতার রাজনীতি নেতাজির আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গিকে ভয় পেয়েছিল। সেই ভয়েরই ফলশ্রুতিতে কীভাবে একটি সুপরিকল্পিত আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়—যার সত্য আজও রহস্য, বিভ্রান্তি ও তথাকথিত দুর্ঘটনার আড়ালে ঢাকা পড়ে রয়েছে—তা এই চলচ্চিত্রে অনুসন্ধান করা হবে।

“সুভাষ চন্দ্র বসুর অকথিত সত্য” দর্শকদের সামনে ইতিহাসকে দেখার এক নতুন জানালা খুলে দেবে। এটি কেবল অতীতের ঘটনাবলির পুনরুল্লেখ নয়, বরং জাতীয়তাবাদ, আত্মত্যাগ এবং প্রকৃত স্বাধীনতার অর্থ নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার আহ্বান। নেতাজির আদর্শ, সংগ্রাম ও ত্যাগকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নতুন চেতনা ও গভীর উপলব্ধির সঙ্গে উপস্থাপন করার জন্য এই চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী ও সময়োপযোগী মাধ্যম হয়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

সুভাষ চন্দ্র বসুর অকথিত সত্য

Related Posts